সিনহা হত্যা: প্রদীপ-লিয়াকতসহ ৩ পুলিশ রিমান্ডে

0
109

কক্সবাজার প্রতিনিধি : সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও এসআই দুলাল রক্ষিতকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। চার পুলিশ সদস্যকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

এরআগে বিকালে ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত আসামি জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন তাদের জামিন নাকচ করে প্রথমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ সদস্যদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে তাদের কক্সবাজার কারাগারে পাঠাতে বলেন বিচারক।

এরপরই মামলার ভার র‌্যাবে স্থানান্তর হওয়ায় র‌্যাবের তদন্তকারি কর্মকর্তা উপস্থিত হন আদালতে। র‌্যাবের তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসিসহ সাত আসামীর প্রত্যেকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদনে করেন। আদালত শুনানী শেষে টেকনাফ থানার ওসি (পরিদর্শক) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও এসআই দুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপর চার আসামী-কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়াকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। পরে চার আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়। নয় আসামীর মধ্যে মামলার বাকি দুই আসামি এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা এখনও পলাতক বলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান।

প্রদীপকে নিয়ে পুলিশ চট্টগ্রামে থেকে আজ বিকাল ৫টার দিকে কক্সবাজারের বিচারিক হাকিম আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। তার আগেই বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে পরিদর্শক লিয়াকতসহ বাকি ছয়জনকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি পুলিশ সদস্যদের আদালতে হাজির করার আগে পুরো এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ওই নিরাপত্তার মধ্যেও আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের হস্তান্তর করা হবে র‌্যাবের হাতে।

র‌্যাবকেই এ মামলার তদন্তভার দিয়েছে আদালত। হত্যা মামলা থাকার পরও কেন প্রদীপ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে এর আগে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রদীপ নিজ থেকেই আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য পুলিশ পাহারা রয়েছে। গত মঙ্গলবার ওসি প্রদীপ অসুস্থ দাবি করে ছুটি নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান। পরে চট্টগ্রামে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওসি প্রদীপের বাড়ি চট্টগ্রামে। কক্সবাজারের আগে তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় জায়গা দখলসহ নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ঈদের আগের দিন ৩১ জুলাই রাতে  টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস যে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, তাতে লিয়াকতকে ১ নম্বর এবং প্রদীপকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। শারমিন শাহরিয়া বুধবার সকালে টেকনাফের বিচারিক হাকিম আদালতে মোট ৯ জনকে আসামি করে ওই মামলা করার পর বিকালে টেকনাফ থানা থেকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়। পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ ২০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয় দুদিন আগেই।  জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্তভার দেন র‌্যাবকে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় টেকনাফ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় বলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বিএম মাসুদ হোসেন জানান। গতকাল দুপুরে খবর আসে, পরিদর্শক প্রদীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে চট্টগ্রামের পুলিশ। এরপর তাকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয় কয়েকটি গাড়ি। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের দামপাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে এসেছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। তাকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজারে নেওয়া হচ্ছে। তিনি যেহেতু মামলার আসমি, তিনি সেখানে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।