পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলো এনার্জিপ্যাক

0
6

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ২০১৩ সাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড। তবে দুই দফা অনুমোদন পেয়েও তা বাতিলের পর এবার আবারও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি পেয়েছে কোম্পানিটি। আইপিও আবেদনের সাত বছরে তৃতীয় দফার চেষ্টায় ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে এনার্জিপ্যাক। বুধবারের কমিশন সভায় অর্থ সংগ্রহে কোম্পানিটিকে শেয়ারের প্রান্তঃসীমা মূল্য (কাট-অব প্রাইস) নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনার্জিপ্যাক পাওয়ারকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের প্রান্তঃসীমা নির্ধারণে নিলামের (বিডিং) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে এলপিজি প্রকল্পের ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও খাতে ব্যয় করবে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের সমন্বিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, এই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতিসহ) ৪৫ টাকা ১৫ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩ টাকা ১৩ পয়সা।

এর আগেও এনার্জিপ্যাক বুক বিল্ডিং পদ্ধতির পুরনো নিয়মে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিলামে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করলেও জটিলতার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেলেও আইন সংশোধনের কারণে সেই অনুমোদনও বাতিল হয়ে যায়। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাবে দুই দফা সম্মতি পেয়েও তা বাতিল হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন এনার্জিপ্যাকের উদ্যোক্তারা। পরে তৃতীয় দফায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদনের প্রায় তিন বছর পর শেয়ারেরে প্রান্তঃসীমা নির্ধারণের অনুমোদন পেল কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে এনার্জিপ্যাক আইপিওর বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় শেয়ার বিক্রি করতে ২০১৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রোড-শো করেছিল। এরপর এসইসির অনুমোদন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব গ্রহণ করেছিল কোম্পানিটি। বুক বিল্ডিংয়ের পুরনো নিয়মে কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের নির্দেশক মূল্য (ইনডিকেটিভ প্রাইস) নির্ধারণ হয়েছিল ৪৮ টাকা। তবে প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র জোগাড় করতে না পারায় ওই দরপ্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে কোম্পানি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির পরিবর্তে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে পুনরায় আইপিওর আবেদন জানায়। ওই সময় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারে ১৫ প্রিমিয়াম চেয়ে শেয়ারের বরাদ্দ ২৫ টাকায় প্রস্তাব দেয়। এই প্রক্রিয়ায় মূলধন উত্তোলনের আবেদন করলে পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের সাত দিনের মধ্যে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি  কোম্পানিটিকে ৪১ কোটি ৮২ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলনের অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসে প্রিমিয়াম চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়। এ কারণে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ এনার্জিপ্যাকের আইপিও অনুমোদন দেওয়ার পর এসইসি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে কমিশন এনার্জিপ্যাককে সংশোধিত পাবলিক ইস্যু বিধিমালা পরিপালন করে স্থিরমূল্য পদ্ধতির আইপিওর জন্য প্রিমিয়াম ছাড়া পুনরায় নতুন আবেদন জমা দিতে বলে। তবে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তৃতীয়বারের মতো আইপিওতে আসার উদ্যোগ নেয় এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। কোম্পানিটি এ দফায় আইপিওর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ১৫০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে রোড-শো করে।

তৃতীয় দফার আইপিও আবেদনে কমিশন এনার্জিপ্যাকের এলপিজি ব্যবসার স্থায়ী লাইসেন্স চায়। কিন্তু বার্ষিক পাঁচ হাজার টনের কম উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানিকে স্থায়ী লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান রয়েছে সরকারের। ফলে প্রায় আড়াই বছর আটকে থাকে আইপিও অনুমোদন। পরবর্তীকালে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে স্থায়ী লাইসেন্স পায় এনাজিপ্যাক। এরপরই এসইসির নতুন কমিশন বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয়।

এনার্জিপ্যাকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরে কোম্পানির পণ্য বিক্রি থেকে আয় চার গুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে এনার্জিপ্যাকের রেভিনিউ ছিল ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা, যা ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে ছিল ৩১৩ কোটি টাকা। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা, যা পাঁচ বছর আগে ছিল ২৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এই কোম্পানির মোট ৩ হাজার ২০৩ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এনার্জিপ্যাকের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১৪৯ কোটি ৮৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা। কোম্পানির ২০৯ কোটি টাকার পুঞ্জীভূত আয় রয়েছে।